সাংবাদিকের চেয়ে ইউটিউবারদের সংখ্যা বেশি ছিল: শবনম

সাংবাদিকের চেয়ে ইউটিউবারদের সংখ্যা বেশি ছিল: শবনম

এপ্রিল ২৪, ২০২২ 0 By বিনোদন২৪.কম

আয়োজকদের উপর চটেছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শবনম বার বার তাগিদ দিয়েছিলেন- ‘অনুষ্ঠানে আসবো তবে কোনো ইউটিউবার যেন না দেখি। ইউটিউবার থাকলে কিন্তু আমি যাবো না’ কিন্তু এমন সতর্কবাণী কোনো কাজেই আসেনি ফলে আয়োজকদের ওপর চটেছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শবনম।

গত শুক্রবার রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন এই অভিনেত্রী। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে শবনমের আগমনের খবর চেপে রেখেছিল আয়োজকরা। কিন্তু অভিযোগ আয়োজকদের কয়েকজনের ব্যক্তিগত বিপুল সাবসক্রাইবের ইউটিউব চ্যানেল থাকায় তারা মূলত সাংবাদিক কম আমন্ত্রণ জানিয়ে ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। অবশেষে শবনমের বিরক্তি প্রকাশের পর সেটা স্পষ্ট হলো। এদিন অধিকাংশ বিনোদন সাংবাদিককে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। এ নিয়েও শবনম বিরক্ত।

তিনি বলেন, বিনোদন জগতে যেকোনো আয়োজনে সাংবাদিকরা প্রাণ। কিন্তু এখানে এসে আমি সেটা ফিল করিনি। একটা গ্যাপ রয়েছে। এই গ্যাপ পূরণ করতে হবে সমিতিকেই। বিভিন্ন মাধ্যম থেকেই সাংবাদিকদের বেশ বড় একটা অংশ আজকের এই আয়োজনে অংশ নেননি। এটা দুঃখনজক। অথচ বার বার ইলিয়াস কাঞ্চনকে বলেছি- হিরো ইউটিউবার থাকলে কিন্তু আমি যাবো না। তিনি আমাকে আশ্বাসও দিয়েছিলেন।

কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখি মোবাইল হাতে অতিথিদের সামনে লোকজনের ভিড়! দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলতে পারি সাংবাদিকরা কখনো অশোভনভাবে অতিথিদের সামনে এভাবে ভিড় করবে না। মানে হচ্ছে ওখানেও ইউটিউবার ছিল। দুঃজনক।

শবনম বলেন, মঞ্চে থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের কারও চেহারাই দেখতে পারছিলাম না। পরে জানতে পারলাম, ওখানে সাংবাদিক ছিল হাতেগোনা। সাংবাদিকের চেয়ে ইউটিউবারদের সংখ্যা বেশি ছিল। তারা কতশত ছবি যে তুলল আর ভিডিও করল। আরে বাবা, কিছু ছবি তুলে সরে গেলে তো হয়। এসবের কারণে সাংবাদিকদের সুনাম নষ্ট হয়। এভাবে মোবাইল ক্যামেরা তাক করে রাখা, এটা খানিকটা বিরক্তিকর লেগেছে।

এদিকে, এদিন ইফতারে আরো অংশ নেন চিত্রনায়ক আলমগীর, রিয়াজ, ফেরদৌস, বাপ্পারাজ, অমিত হাসান, অনন্ত জলিল, বর্ষা, ময়ূরী, নিপুণ, কেয়া, সাইমন, নিরব, ইমনরা। একমাত্র শবনম ছাড়া আর কোনও জ্যেষ্ঠ শিল্পীকে দেখা যায়নি। ছিল না মিশা-জায়েদ খান প্যানেল থেকে পাস করা কোনও প্রার্থী। আবার অনেক শিল্পীই ইফতারের আমন্ত্রণ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইফতার মাহফিলে ইউটিউবার শিল্পী সমিতির কয়েকজন নেতার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শেষমুহুর্তে। বিষয়টি পেশার প্রতি অমর্যাদাকর ভেবে অধিকাংশ সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া থেকে বিরতে থাকেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দুইদিন পর সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত নিপুন আক্তার প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটিউবাদের ব্যাপক প্রসংশা করলে সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় পরে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।