অভিষেক যেমন ভালো নায়ক, তেমনি সুপুরুষ: শতাব্দী রায়

অভিষেক যেমন ভালো নায়ক, তেমনি সুপুরুষ: শতাব্দী রায়

মার্চ ২৪, ২০২২ 0 By বিনোদন২৪.কম

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মাত্র ৫৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন কলকাতার নায়ক অভিষেক চ্যাটার্জী। এই নায়ককে নিয়ে লিখেছেন তার নায়িকা শতাব্দী রায়।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে অভিষেককে নিয়ে শতাব্দী লিখেছেন, কিছুতেই চোখের জল বাঁধ মানছে না। রবিবারে ওকে শেষ বার দেখেছি। তখনও জানি না, ওটাই আমাদের শেষ দেখা। ও আমার বহু ছবির নায়ক। ও আমার খুব ভাল পড়শি। আমায় স্টার জলসার রিয়েলিটি শো-এর জন্য বলেছিল। রাজি হইনি। তখন অভিষেক বলেছিল, একটা ভিডিও করে দিতে। রাজি হয়েছিলাম। বারবার আমার বাড়িতে আসতে চেয়েছিল।
বলেছিলাম, ‘‘দিল্লি চলে যাচ্ছি। এখন এসো না। দু’দিন পরে এসো।’’ এভাবে একেবারে চলে গেল! আমি কি ওকে বরাবরের মতো আসতে বারণ করেছিলাম?

কী করে কলকাতায় ফিরব? কী করে অভিষেককে শেষ দেখা দেখব? এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছি না, আমার ‘নায়ক’ নেই! খাটে শুয়ে আছে। টিভির পর্দায় দেখছি। মুখে-চোখে কী প্রশান্তি! যেন রাজার মতো ঘুমিয়ে রয়েছে। ডাকলেই হাসতে হাসতে উঠে পড়বে। দেখছি আর বলছি, চিকিৎসক ভুল বলেননি তো! হয়তো অন্য চিকিৎসক ওকে দেখে বলবেন, কিচ্ছু হয়নি! অভিষেক একদম সুস্থ।

অভিষেক যেমন ভালো নায়ক, তেমনি সুপুরুষ। তেমনই ভালো মানুষ। প্রতিবেশী হিসেবেও তুলনা হয় না। একই বহুতলের ১২ তলায় আমি, সাত তলায় অভিষেক। আমার বাড়িতে পরিচারিকা নেই। অভিষেককে বলেছি, একজন পরিচারিকার ব্যবস্থা করে দেবে? সঙ্গে সঙ্গে জবাব, দেখছি। পরিচারিকা জোগাড়ও করে দিয়েছে। অভিনয় ছাড়াও ওর সঙ্গে শো করতে গিয়েছি। অভিষেকের জনপ্রিয়তা দেখার মতো! বিশেষ করে মেয়েরা ওর জন্য পাগল হতেন। সেই সময় টালিউডকে যে চার স্তম্ভ কাঁধে করে ধরে রেখেছিলেন, তাদের অন্যতম অভিষেক। কিন্তু কী অমায়িক ও! কোনও চাহিদা নেই। কোনও অহংকার নেই। মুখ ফুটে কখনও, কিচ্ছু চায়ওনি। এই জন্যই হয়তো বড় পর্দায় যেভাবে ওকে দেখা যেতে পারত, সেভাবে দেখা গেল না। বদলে যদিও ও ছোট পর্দায় পুষিয়ে নিয়েছে। কোনোদিন ওকে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে অভিষেক পা মেলাল না। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অনুরোধ জানালেই বলত, ‘‘আমার তৃণমূল শতাব্দী। ও আছে। আবার আলাদা করে আমি কেন?’’

অভিষেক প্রচণ্ড ঠাকুর ভক্ত। সব পুজো হয় ওর বাড়িতে হয়। দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী, সরস্বতী পুজো বাঁধা। সেখানে আমার সপরিবারে নিমন্ত্রণ। খুব খাওয়াতে ভালবাসত তো। তাই প্রায়ই পার্টি দিত। হুল্লোড়ে মাতত। একইভাবে সিড়ডি সাঁইবাবার বড় ভক্ত ছিল। প্রতি বছর নিয়ম করে যেত আশ্রমে। উদযাপনে অংশ নিত। খুব রাগ হচ্ছে অভিষেকের ওপরে। কেন নার্সিংহোমে গেল না চিকিৎসা করাতে? কার ওপরে এত অভিমান? গেলে সঠিক চিকিৎসা হত। সুস্থ হয়ে যেত। নাকি, সেটা হওয়ার নয় বলেই হলো না?

অভিষেক কি টের পেয়েছিল, ও না ফেরার দেশে যাচ্ছে? তাই শেষবারের মতো দেখা করার জন্য অত আকুতি জানিয়েছিল? খুব আফসোস হচ্ছে। এই আফসোস রাখি কোথায়!