অন্যের জায়গায় নিজেকে চিন্তা করুন, বাজে মন্তব্য থেকে বেরিয়ে আসুন

অন্যের জায়গায় নিজেকে চিন্তা করুন, বাজে মন্তব্য থেকে বেরিয়ে আসুন

জুন ১৪, ২০২১ 0 By বিনোদন২৪.কম

নাজমুল আহসান: আমাদের সমাজের কিছু মানুষের চিন্তা-চেতনা এখনও ডাস্টবিনের তলায়। জাতি আজ সচেতন, চিন্তা-চেতনায় আদৌ কি সুদূরপ্রসারী? আজকে পরিমনির যে আলোচিত ইস্যু, হরহামেশাই এমনটি ঘটছে অনেক নারীর সঙ্গে। আর এমন ঘটনা ঘটলেই মেয়েদের খাটো চোখে দেখা হয়। কিন্তু কেন? কেন এই নীচু চিন্তা আমাদের?

অনেককেই দেখছি বাজে মন্তব্য করতে, বলতে লজ্জা হচ্ছে এদের অধিকাংশ আবার পুরুষ। তাদের কাছে কি কৃষ্ণ করলে লীলা, আমরা করলে দোষ? মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনটিই ভেবেই কী ফ্রিজিং হয়ে আছে এই সব পুরুষরা? ভাবখানা এমন, নারীদের যেন জন্মই হয়েছে সমাজের চোখে নিচু হয়ে থাকার জন্য। কোনও ঘটনা ঘটলে এটি যেন নারীদের দোষ। যেন এক বিরাট পার্সোনাল ডিসক্রেডিট।

পরীমনিকে নিয়ে এত নোংরা মন্তব্য কেন? সে নায়িকা, ওয়েস্টার্ন ড্রেসে থাকবে এটা স্বাভাবিক। আর মানুষ যেমনি হোক, আপনি জোর করে তো আর ধর্ষণের মত নিন্দনীয় কাজ করতে পারেন না। এই স্বাধীনতা কেউ আপনাকে দেয়নি। শুধু তাই নয়, ঘরের বউকেও জোড়পূর্বক কিছু করতে পারেন না। আর ব্যবহার বংশের পরিচয়, এটা যদি মানেন তাহলে অশ্লীল মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

রাস্তা চলতে গেলে দেখি মেয়েদের বাঁকা চোখে দেখছেন, আড় চোখে দেখছেন। একশ্রেণির লোকও আছেন যারা মেয়েদর দোষ খুঁজে বেড়ান। এক প্রকার শকুনও আছে আমাদের সমাজে যারা আশপাশে মেয়ে পেলে সুযোগসন্ধানী হয়ে ওঠে। আমাদের সমাজের চিন্তা-চেতনা কেন এত বিকারগ্রস্ত?

এমনও দেখেছি মেয়েরা ভালো কাজ করতে গেলেও সমাজের এইসব লোকদের চুলকানি, বিখাউজ, পাঁচড়া সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আচরে পড়ে। এর আগে পরীমনিসহ অনেক নায়িকা বেশ কয়েকবার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তখনও ওইসব মানুষরা কটুক্তি করতে ছাড়েননি। চিন্তাগুলো কেন এমন?

যাই হোক, আজকের যে ঘটনা আলোচনায়, বা পূর্বে মেয়েদের সঙ্গে এ ধরণের যত ঘটনা হয়েছে আপনারা বাজেভাবে দোষ চাপিয়েছেন মেয়েদের দিয়ে। একবার কি ভেবেছেন মেয়েটি যদি আপনার মেয়ে বা বোন হতো তাহলে কি আপনি মুখ বন্ধ করে রাখতেন? কখনোই না। আপনার পরিবারে এমন ঘটনা ঘটলে কি করতেন একবার ভেবে দেখুন। অন্যের জায়গায় নিজেকে নিয়ে চিন্তা করুন, বাজে মন্তব্য থেকে বেরিয়ে আসুন।

পরিশেষে পরীমনি কিংবা তার মতো ঘটনার স্বীকার মেয়েরা আপনারাও শক্ত হোন। হীনম্মন্য হয়ে পড়ে থাকার কিছু নাই। আত্মবিশ্বাসী হোন। আবারও বাজেমন্তব্যকারীদের বলি, ব্যবহার বংশের পরিচয় বহন করে। কোনও অবস্থাতেই আত্মসম্মান ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিবেন না। নিজের অবস্থান থেকে সবার চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনুন। ভিক্টিমের পাশে দাঁড়াই, অপরাধীর শাস্তির দাবি জানাই। সবার জীবন সুখের হোক, পরম শান্তিময় হোক।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত।