বনানী কবস্থানে সমাহিত হলেন কবরী

বনানী কবস্থানে সমাহিত হলেন কবরী

এপ্রিল ১৭, ২০২১ 0 By বিনোদন২৪.কম

বনানী কবরস্থানে সমাহিত হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে সারাহ বেগম কবরী। এর আগে শনিবার (১৭ এপ্রিল) বনানী কবরস্থানেই এই অভিনয়শিল্পীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর বাদ জোহর কবরস্থান এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, পরিচালক নেতা মুশফিকুর রহমান গুলজার, অভিনেত্রী সোহানা সাবা, প্রযোজক ইকবালসহ চলচ্চিত্র অঙ্গন ও আত্মীয়-পরিজনদের অনেকেই।

এদিন সকালে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের হিমঘর থেকে করবীর মরদেহ নেওয়া হবে মোহাম্মদপুর আল মারকাজুলে। সেখানে গোসল করানো শেষে তার মরদেহ গুলশান ২ নম্বর এলাকার লেক রোডের বাড়িতে শেষবারের মতো নেওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর কবরীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বনানী কবরস্থানে।

কিংবদন্তী এই অভিনেত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দিনগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবীণ-নবীন সব শিল্পীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করছেন।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল কবরীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর ওইদিন রাতেই তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল দুপুরে তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। ১৫ এপ্রিল নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্ম নেন কবরী। পারিবারিক নাম মিনা পাল। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারে। এরপর ১৯৬৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নির্মাতা সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মিনা পাল থেকে কবরী হয়ে উঠেন তিনি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সুজন সখী’, ‘স্মৃতিটুকু থাক’, ‘সারেং বউ’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’সহ তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন কবরী।

অভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৬ সালে ‘আয়না’ নামে চলচ্চিত্রের পরিচালনার মধ্য দিয়ে নির্মাণে অভিষেক হয় কবরীর। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে ‘এই তুমি সেই তুমি’ না‌মে দ্বিতীয় চল‌চ্চিত্র নির্মাণ হাত দিয়েছিলেন। সিনেমাটির কাজ অসম্পূর্ণই রেখে আলে গেলেম।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কবরী।নিয়মিত লেখালেখিও করতেন। ২০১৭ সালে তার লেখা স্মৃতিচারণমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’ প্রকাশিত হয়।