আপনি কি জানেন? গুহার মধ্যে শুরু হয় চামচের ব্যবহার

আপনি কি জানেন? গুহার মধ্যে শুরু হয় চামচের ব্যবহার

এপ্রিল ১২, ২০২১ 0 By বিনোদন২৪.কম

বহু ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা বর্তমান সভ্যতায় পৌঁছেছি। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আদিমকালে মানুষ আধুনিক পদ্ধতিতে রান্না করতে কিংবা চাষাবাদ করতে জানত না। তাই তারা বেঁচে থাকার তাগিদে কাঁচাই খেত পশু- পাখির মাংস।

তবে এরপর পাথরে পাথর ঢুকে আগুন জ্বালানো শেখার পর ঝলসিয়ে মাংস খেতে শুরু করলো তারা। তবে দিন যত এগিয়েছে জীবনযাত্রা ততই সহজ হয়েছে। প্রযুক্তি মানুষকে এনে দিয়েছে সুখ এবং স্বাচ্ছন্দ। ধীরে ধীরে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ছোঁয়া জীবনকে করেছে সহজ থেকে সহজতর।

মানুষের খাওয়া দাওয়ার সরঞ্জামের বিকাশের অগ্রগতির ইতিহাস মানুষকে তার আদিমতা থেকে সরিয়ে এনে নতুন যাত্রাপথে নিয়ে গেছে। আধুনিকতা মানুষকে শিখিয়েছে চামচ দিয়ে খাবার খাওয়া। আর এখানকার যুগে এটা এক ধরনের ভদ্রতা বলেও গণ্য করা হয়। এমনকি চামচের হাতলের ডিজাইন বলে দিতে পারে মানুষের আভিজাত্য আর রুচির পরিচয়।

লন্ডনের ব্রিটিশ যাদুঘরের প্রাচীনতম বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ওলুভুই পাথর কাটার সরঞ্জাম যা তানজানিয়ায় এক আদিম মানব গুহায় থেকে আবিষ্কৃত করা হয়েছিল। ধারণা করা হয় যে, এটি নাকি ১.৮ মিলিয়ন বছর পুরোনো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই সরঞ্জামটিকে প্রাথমিকভাবে ছুরি হিসেবে ব্যবহার করা হত।

এখানেই শেষ নয়, বড় বড় প্রাণীর মাংস কাটতে বা হাড় থেকে মজ্জা বা বোনম্যারো বের করতে এটি মানব জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের অস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় অস্ত্র ছিল। খাবারদাবারের সরঞ্জামের মধ্যে চামচ বেশ পুরোনো। ১২৫৯ সালে ইংল্যান্ডে চামচের ব্যবহার প্রথম শুরু হয় বলে জানা যায়। বৃটিশ রাজাদের মধ্যে চামচ এর জনপ্রিয়তা বেশ অনেকটাই ছিল।

এছাড়া যারা রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতেন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চামচ দিয়ে সংবর্ধনার নিয়ম ছিল চালু। টিউডর ও স্টুয়ার্ড যুগে চামচ আরো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে। তখন বাচ্চাদের নামকরণ অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে চামচ দেওয়ার রীতি চালু ছিল। তাও দিতে হত ধর্মযাজকে। ধনীরা ১২টি চামচের একটি সেট দিত। পরবর্তীতে তা থেকে বাড়িয়ে ১৩টি চামচ দেয়া হতো- যার একটিকে বলা হতো প্রধান চামচ বা মাস্টার স্পুন।