মান্না চলে যাওয়ার ১৩ বছর আজ

মান্না চলে যাওয়ার ১৩ বছর আজ

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১ 0 By বিনোদন২৪.কম

নব্বই দশকে বাংলা সিনেমাকে যে কয়েকজন চিত্রনায়ক সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে মান্না অন্যতম। জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক আমাদের মাঝে নেই। আজ তার চলে যাওয়ার ১৩ বছর।

সংলাপ ও অভিনেতা সুলভ আচারণে পর্দায় চিত্রনায়ক মান্নার উপস্থিত ছিল্র দৃঢ়চেতা। সামাজিক অসঙ্গতির কথা তার অভিনীত সিনেমায় বেশি উঠে এসেছে। মান্নাকে প্রায়ই দেখা যেতো পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতে। এ পেশা ও আদর্শকে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন এ নায়ক।

তার সিনেমা মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, হল ভর্তি দর্শক এবং প্রযোজকের পকেটে লাভের টাকা। ১৯৮৪ সালে বিএফডিসি আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মান্না চলচ্চিত্রে আত্নপ্রকাশ করেন। ১৯৮৫ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘পাগলী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে।

যদিও তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘তওবা’। ‘কাসেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হলে কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান। এরপর আর জনপ্রিয়তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। জীবনদশায় অনেক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

মান্না প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে- সিপাহী, যন্ত্রণা, অমর, পাগলী, দাঙ্গা, ত্রাস, জনতার বাদশা, লাল বাদশা, আম্মাজান, দেশ দরদী, অন্ধ আইন, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, অবুঝ শিশু, মায়ের মর্যাদা, মা বাবার স্বপ্ন, হৃদয় থেকে পাওয়া ইত্যাদি।

মান্না অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। তিনি কৃতাঞ্জলী চলচ্চিত্র নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি লুটতারাজ, স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ, দুই বধু এক স্বামী, আমি জেল থেকে বলছি, পিতা মাতার আমানতসহ মোট আটটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।

২০০৮ সালের আজকের দিনে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এ অভিনেতা। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় আছেন চির নিদ্রায়।