বাবা ছাড়া চলে গেলো দুই বছর: আইয়ুব বাচ্চুর সন্তানরা

0
15

দেশীয় ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম দিকপাল, গিটার জাদুকর ও এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চু ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মারা যান। রোববার (১৮ অক্টোবর) তার চলে যাওয়ার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে ব্যান্ড ।

সংগীতের এই মহাতারকার মহাপ্রয়াণের দুই দিন আগে (১৬ অক্টোবর) ‘এলআরবি’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক পোস্ট দেওয়া হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকে। পোস্টের শিরোনামে বাচ্চুর দুই সন্তান- ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব লেখেন, ‘বাবুইকে (বাবা) ছাড়া চলে গেলো দুই বছর, আরো ক’বছর এভাবে যাবে জানি না!’

এরপর ১৮ অক্টোবর তারিখটি উল্লেখ করে দেশবাসী ও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়ে বিবৃতি দেন তারা। লেখেন, আমাদের মতো আপনাদেরও (ভক্তদের) অনেক কষ্টের এই ১৮ অক্টোবর। আমাদের বাবুই এর জন্য সবাই মন থেকে দোয়া করবেন।

বাবার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে তারা কি উদ্যোগ নিয়েছেন সেই বিষয়টি ভক্তদের অবগত করে তারা লেখেন, আমরা আমাদের বাবুই (বাবা) এর জন্য তার জন্মদিনে (১৬ আগস্ট) ও গত বছর চলে যাওয়ার এই দিনে যতটুকু করলে আল্লাহ্ খুশি হন, ততটুকুই করেছি এবং করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে আরো লেখেন, আমরা ঘোষণা দিয়ে কখোনোই কিছু করিনি। কারণ, আমরা আমাদের বাবুই এর কাছ থেকেই একটা জিনিস খুব ভালো করে শিখেছি যে, তোমার ডান হাতে দান করলে তোমার বাম হাত তা জানবে না। নিঃশব্দে কাজ করবা- আল্লাহ্ পাকও তা পছন্দ করেন। গত বছর আমরা চট্টগ্রামে বিশেষ আয়োজন করেছি তার পছন্দের জায়গাগুলোতে, মাজারগুলোতে। এবার পেনডেমিকের জন্য সবকিছু একটু থমকে গেছে। গতবারের মত এবারও আমাদের দুই ভাইবোনের দেশে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পেনডেমিকের কারণে আর দেশে ফেরা সম্ভব হলো না।

তাই আমরা পারিবারিকভাবে আমাদের বাবুই এর পছন্দের জায়গাগুলোতেই অর্থাৎ যেখানে উনি আগেও দিতেন সেসব জায়গাতেই দোয়া খায়ের করছি। যেমন, আমাদের বাসার পাশে মসজিদে পুরো মাস জুড়ে কোরান খতম, পারিবারিকভাবে খতম আর এতিমখানায় খাওয়ানো- যেটা বাবুই নিজেই আমাদেরকে সবসময় করার জন্য শিখিয়েছেন। এছাড়া বাবুই এর পছন্দের কয়েকটা এতিমখানায় কিছু জিনিস দিচ্ছি তার নামে। আল্লাহপাক যেন আমাদের এই দান ও ইবাদত কবুল করে নেন। তার ভক্তদের কাছেও অনুরোধ থাকবে, যারা তাকে অন্তরের গভীর থেকে ভালোবাসেন তারা অন্তত ঐ দিন বাবুই জন্য দুই রাকাত নামাজ পড়ে তার জন্য দোয়া করবেন।

বাবার প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা এবং তার সৃষ্টিকে রক্ষার্থে সবার সমর্থন প্রত্যাশা করে লেখেন, বাবুই এর সব সৃষ্টিকে যেন আমরা রক্ষা করতে পারি। তার জন্য যা যা করার ও যতটুকু করার তা আমরা করেই যাবো, আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমরা আশা করছি, আপনারাও আমাদের এই পথ চলায় সঙ্গে থাকবেন। আর বাবুইকে আগের থেকেও বেশি ভালোবাসবেন। তার জন্য অনেক দোয়া করবেন শুধু- এটাই আমাদের কামনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here