জীবনের ৭২ বসন্তে ‘ড্রিম গার্ল’

0
13

বয়স যেন তার জন্য শুধুই একটি সংখ্যা মাত্র। বলছি বলিউড ড্রিমগার্ল হেমা মালিনী, ‘শোলে’ ছবিতে ধর্মেন্দ্রর সেই বাসন্তীর কথা। আজ ১৬ অক্টোবর তার জন্মদিন। জীবনের ৭২ বসন্ত বয়সেও দর্শকের কাছে ‘ড্রিম গার্ল’ হয়েই আছেন তিনি। বড়পর্দা থেকে রাজনীতির আঙিনায়ও তিনি সমুজ্জ্বল।

তার নাম আসলেই ভেসে ওঠে কাজল কালো দুটি চোখ, মিষ্টি হাসি আর অপরূপ চেহারার এক প্রতিমারূপী নারী। তিনিই হেমা মালিনী। বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী। ষাট থেকে নব্বই টানা তিন দশক দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

ছোট থেকেই তিনি নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি তামিল ভাষার চলচ্চিত্র ‘ইদু সাথিয়া’তে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যেটি ১৯৬২ সালে মুক্তি পেয়েছিল। যদিও ১৯৬১ সালে ‘পান্ডব বনবাসাম’ ছবির একটি ছোট্ট চরিত্রের মাধ্যমে বলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়।

ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘তারকাসুলভ’ চেহারা নেই বলে তামিল পরিচালক সিভি শ্রীধরের সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন হেমা। পরে সেই চরিত্রে অভিনয় করেন জয়ললিতা। তবে রুপালি পর্দায় নায়িকা চরিত্রে অভিষেক বললে ১৯৬৮ সালে ‘স্বপ্ন কা সওদাগর’ চলচ্চিত্রের কথাই বলতে হবে।

মহানায়ক রাজ কাপুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে করা ‘স্বপ্ন কা সৌদাগর’ এর পর তাকে সবাই হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের ‘ড্রিম গার্ল’ বা ‘স্বপ্নের তরুণী’ নামে অভিহিত করে। চলচ্চিত্রটি সেসময় ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর আর পেছন ফেরে তাকাতে হয়নি তাকে। নায়কের পাশাপাশি হেমাও ছিলেন বলিউডের বক্স অফিসের তুরুপের তাস।

বাণিজ্যিকভাবে হেমা মালিনীর সাফল্য আসে আশি ও নব্বই দশকে। এই সময়ে তার অভিনীত ‘ক্রান্তি’, ‘নসীব’, ‘সত্তে পে সত্তা’, ‘এক নাহি পেহেলি’, ‘রামকালি’, ‘সীতাপুর কি গীতা’, ‘জামাই রাজা’, ‘আলিবাবা অউর ৪০ চোর’, ‘সম্রাট’, ‘আন্ধা কানুন’, ‘দরদ’, ‘কুদরত’, ‘হাম দোনো’, ‘রাজপুত’, ‘বাবু’, ‘দুর্গা’সহ বহু সিনেমা সুপারহিট হয়।

অল্প সময়ে হয়ে ওঠেন ‘ড্রিমগার্ল’। তিনি জুটি বেঁধে অভিনয় করেন ধর্মেন্দ্র, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্নার মতো তারকাদের সঙ্গে। যার ফলে বলিউডে তার শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। সর্বমোট ১১ বার ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পান। ২০০০ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মাননা লাভ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here