সালমান শাহ প্রস্থানের ২৪ বছর

0
51
বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ

বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ। শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন থেকে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে পরিচিতি পান সালমান শাহ নামে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই রহস্যঘেরা মৃত্যু হয় তাঁর। আজ এ নায়কের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

শুরুটা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে হলেও এরপর খুব বেশি ছবি করা হয়নি সালমান শাহর। পূর্ণদৈর্ঘ্যে চলচ্চিত্রে, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্যারিয়ার তাঁর। হিসেবটা ৩ বছর ৫ মাস ১২ দিনের আর ২৭ টি চলচ্চিত্রের। স্বল্প সময়েই দেশ কাঁপিয়েছেন ক্ষণজন্মা এই নায়ক।

হয়তো তিনি স্বয়ং নেই, তবু আছেন খুব বেশি। স্বপ্নের পৃথিবীতে স্বপ্নের নায়ক হয়ে। এখন যদিও মেঘের ওপারে এই প্রিয় নায়কের স্বপ্নের ঠিকানা তবু আশা-ভালোবাসায় চাওয়া থেকে পাওয়া যে রয়েই যায়। জীবনের গোলকধাঁধায় জীবন সংসারে কেটে গেছে বহু দিন, তবু আজো আবেগের দেনমোহরে প্রেম পিয়াসী মনে তারুন্যের মিছিল স্লোগানে মুখর তোমাকে চাই।

যদিও জানি, সত্যের মৃত্যু নাই তবু অন্তরে অন্তরে বিক্ষোভ বুকের ভেতরে আগুন আর চোখে মহামিলনের আনন্দ অশ্রু তুমি আমার। জলের জোয়ার-ভাটার খেলায় এই ঘর এই সংসারে হয়তো পেরিয়ে যাবে দিন-মাস-বছর কেয়ামত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তবু ভক্তদের প্রেমযুদ্ধে শুধু তুমিই যে সুজন সখি।

কোটি আঞ্জুমানের প্রিয়জন আর স্নেহের সেই একটি নাম সালমান শাহ। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ চলচ্চিত্রের উঠোনে যদিও বয়সটা ছিলো এমনই, তবু অল্প সময়ের সঙ্গে রাঙিয়েছেন সিনেমার পর্দা।

প্রিয় এই নায়কের হঠাৎ প্রস্থানে থমকে গিয়েছিলো ভক্তরা। যদিও থেমে গেছে জীবন প্রদীপ তবু শিখাটা যে আজো ভীষণরকম উজ্জ্বল। প্রিয় নায়ক তুমি ছিলে, তুমি আছো তুমি থাকবে এভাবেই আজীবন।

এক নজরে সালমান শাহ

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। কমর উদ্দিন চৌধুরী ও নীলা চৌধুরী দম্পতির বড় ছেলে তিনি। দাদার বাড়ি সিলেট শহরের শেখঘাটে। যে বাড়ি এখন ‘সালমান শাহ হাউস’ নামে রয়েছে।

খুলনায় বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে শুরু হয় সালমানের শিক্ষাজীবন। ওই স্কুলে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ছিলেন তার সহপাঠী। ১৯৮৭ সালে ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বি.কম পাস করেন এ চিত্রনায়ক।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার অভিনয় ক্যারিয়ার। এরপর ‘দেয়াল’, ‘সব পাখি ঘরে ফিরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৯০ সালে মঈনুল আহসান সাবের রচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘পাথর সময়’ এবং ১৯৯৪ সালে ‘ইতিকথা’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন বলেও খোঁজ পাওয়া গেছে।

সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক। তাঁর অভিনীত অন্য ছবিগুলো হচ্ছে- তুমি আমার, অন্তরে অন্তরে, সুজন সখী, বিক্ষোভ, স্নেহ, প্রেমযুদ্ধ, কন্যাদান, দেনমোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, আঞ্জুমান, মহামিলন, আশা ভালোবাসা, বিচার হবে, এই ঘর এই সংসার, প্রিয়জন, তোমাকে চাই), স্বপ্নের পৃথিবী, সত্যের মৃত্যু নাই, জীবন সংসার, মায়ের অধিকার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, শুধু তুমি, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভেতর আগুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here