সালমান শাহের পরিবারের বিরুদ্ধে সামিরার মামলা

0
13

মৃত্যুর ২৪ বছর পরও ফুরায়নি ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর আবেদন। তার মৃত্যুরহস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তদন্ত। বেশ কয়েকটি আইন রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শেষে রায় দিয়েছে আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান। তবে তার পরিবারের সদস্যরা তা প্রত্যাহার করে এসেছেন বরাবরই।

তারা দাবি করে আসছেন সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আর সেই খুনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা হক ও তার পরিবার। কোনো কিছু প্রমাণ না হওয়া সত্বেও তাকে খুনি বলে বেড়াচ্ছেন, সালমান ভক্তদের উস্কানি দিচ্ছেন। এতে করে নিজের ও পরিবারের মানহানি হয়েছে দাবি করে মানহানি মামলা করেছেন সামিরা।

তিনি জানান, সালমান শাহের মা, ছোট ভাই ও মামা আলমগীর কুমকুমের নামে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে।

সামিরা বলেন, ভালোবেসে নিজের পরিবার ছেড়ে ইমনের (সালমান শাহ) হাত ধরে এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। সেই মানুষটা মারা যেতে না যেতেই আমাকে তার খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হলো। মিথ্যে সব রুচিহীন, নোংরা, অশ্লীল গল্প সাজিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে দেশবাসীর কাছে হেয় করা হয়েছে। বারবার। বহুবার। আর কতো সহ্য করা যায়। সেজন্যই আমি আমার ও পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে আইনের দ্বারস্থ হলাম।

মামলাটি কবে হয়েছে জানতে চাইলে সামিরা বলেন, বেশ কয়েক মাস আগেই এই মামলাটি করা হয়েছে। এরপর থেকেই উনারা কিছুটা চুপ করে আছেন। বারবার তদন্ত করে প্রমাণ হয়েছে যে ইমন আত্মহত্যা করেছে। তারপরও কোনো প্রমাণ ছাড়া মনগড়া গল্প সাজিয়ে আমাকে ও আমার বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সম্মান হানি করা হচ্ছে। কেন মেনে নেবো আমি? অনেক সুযোগ ও সম্মান তাদের দেখানো হয়েছে। এবার এসব থামা উচিত।

সামিরা আরো বলেন, তারা খুনের মামলা করেছেন। তারা কিন্তু বাদী। মামলায় জড়ালে আইনি জটিলতা থাকে যেখানে সেখানে মুখ খোলা নিয়ে। কিন্তু তারা সেসব কিছুই মানেননি। ২৪টা বছর ধরে একতরফা সব গল্প বলে বলে দেশের মানুষকে বিষিয়ে তুলেছেন আমার বিপক্ষে। কেউ কিছু না জেনে না বুঝে না ভেবে আমাকে খুনি ভেবে যাচ্ছে। গালি দিচ্ছে। আমার পরিবারকেও নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে ২৪টা বছর। আমার বাবা, মা, বোনদেরও জড়ানো হয়েছে।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এতোদিন নিরব ছিলেন দাবি করে সামিরা বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আমি চুপ ছিলাম। এখন সময় হয়েছে সবকিছু নিয়ে কথা বলার। যেটা সত্য সেটা চিরকাল সত্যই। আমি নিজের চোখে যা দেখেছি তাই বলবো। সেই ৯৬ সালেও বলেছি ইমন আত্মহত্যা করেছে এখনো তাই বলছি। যদি সেটা মিথ্যে হতো বারবার তদন্তের কোনো না কোনোবার সেটা প্রমাণ হতো।

অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত রায় দেবে পিবিআই। সেই অপেক্ষায় রয়েছেন সামিরা। তিনি বলেন,আসছে অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত রায় দেবে পিবিআই। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। আইন কখনো কারা দ্বারা প্রভাবিত হয় না। আবেগ আক্রান্তও হয় না। সে সত্যের অনুসন্ধান করে সত্যকেই জয়ী বলে ঘোষণা দেবে। সেটা আমি মেনে নেবো। তবে প্রমাণ ছাড়া যদি কেউ আমাকে বা আমার পরিবারকে মিথ্যে দায়ে অভিযুক্ত করে, কোনোরকম মানহানির চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here