‘এবার থামুন আর কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না’

0
18

চলচ্চিত্রর ক্রান্তিকাল। করোনা এলো মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা হল ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধ। চলচ্চিত্রর বেহাল দশার মধ্যেই এ অঙ্গনের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে ব্যস্ত। গত ১৫ জুলাই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন।

এর প্রতিবাদে এফডিসিতে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী ও তারকারা। গেল রোববার এফডিসির জহির রায়হান মিলনায়তনের প্রদর্শন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। এ নিয়ে কথা বলেছেন সিনিয়র শিল্পীরাও। তারা মনে করেন, শিল্পী সমিতি একটি পরিবার। এই পরিবারে মান-অভিমান হবে, সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেটা বাইরে প্রচার না করে নিজেদের মধ্যেই সমাধান করা শ্রেয়।এবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন দর্শকপ্রিয় অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ১৮টি সংগঠন। এই সংগঠন গুলোকে এক হয়ে এক প্লাটফর্মে দাঁড়ানো দরকার। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার বেহাল দশা। বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে সেটার কারণে মানুষ আরও হাসাহাসি করছে। আমরা তো কেউর হাসির পাত্র হতে চাই না। আমরা শিল্পীরা চেষ্টা করি সমাজে ম্যাসেজ দেওয়ার। চেষ্টা করি দর্শককে বিনোদিত করার। তবে আমরা নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করে মানুষকে হাসার সুযোগ করে দিচ্ছি। সবার মিলেমিশে কাজ করতে হবে। যে যার সমিতি নিয়ে কাজ করবে। প্রত্যকটি মানুষ যদি তার কাজটিই করে তাহলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হবে। এই ভাবনা নিয়ে সকলের কাজ করা উচিৎ।

তিনি আরো বলেন, কাকে বয়কট করবো, কাকে নামাবো, কী করবো সেটা নিয়ে এখন ভাবনার সময় না। আমি চলচ্চিত্রর একজন নায়ক হিসেবে বলতে চাই আপনারা দলাদলি বন্ধ করেন। দয়া করে আপনারা মানুষের কাছে আর হাসির পাত্র হবেন না। অনেক হয়েছে এবার বন্ধ করুন এসব। একজন শিল্পী হিসেবে এটা আমার গায়ে লাগে। প্রযোজক-পরিচালক হিসেবে যেমন আপনার গায়ে লাগে তেমনি একজন শিল্পী হিসেবে আমারও গায়ে লাগে। শিল্পী সমিতি যে কাজ করছে সেটি করতে দেন। আপনারও আপনাদের কাজ করেন। সবাই একত্র হয়ে বিষয়টি সমঝোতা করার চেষ্টা করেন।

মিলন বলেন, এফডিসির ভেতরের বিষয়গুলো বাইরে আনবেন না প্লিজ। ভেতরে বসে সমাধান করুন। বয়কট একটা সমাধান নয়। মতের ঐক্য থাকতেই পারে সেটি আলোচনার সুযোগ আছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাই একটা পরিবার। পরিবারের দ্বন্ধ যদি আমরা নিজেরাই বাহিরে নিয়ে যাই তাহলে সেটি আমাদেরই লজ্বা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আপনারা যারা মিশা-জায়েদ খানের বয়কটের কথা বলছেন তারা সিনিয়রদের সাথে নিয়ে বসে দয়া করে সমাধান করেন। আর কাদা ছোড়াছুড়ি চাই না। এই কাদা ছোড়াছুড়ি করায় ব্যক্তিগত ভাবে আমারও সম্মানহানী হচ্ছে। এ নিয়ে অনেকের অনেক কথা শুনতে হচ্ছে এবং জবাব দিতে হচ্ছে। সুতরাং আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা সমস্যার সমাধান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here