বিজয় দিবসের বিশেষ টেলিফিল্ম সেই আমি

0
29

মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর অবদানের কথা স্মরণ করে তার জীবনী নিয়ে এই প্রথম বিজয় দিবসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে টেলিফিল্ম সেই আমি। এটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ড. মইনুল খান ও পরিচালানা করেছেন দীপু হাজরা। অভিনয় করেছেন আরমান পারভেজ মুরাদ, নাজনীন হাসান চুমকী, রুনা খান, সমাপতি মাসুক, সায়েম সামাদ, আজম খান, অরিত্রাসহ আরও অনেকে।
টেলিফিল্মটি চ্যানেল আই এর বিজয় দিবয়ের বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে প্রচারিত হবে। গল্পের ধারাবাহিকতায় টেলিফিল্মটিতে দেখা যায় মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে আসলে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী মিলিটারী তাকে খুজতে তার গ্রামের বাড়ি যায়। সেখানে খুঁজে না পেয়ে এক রাজাকারের সহযোগীতায় উপস্থিত হয় তার নানা-নানীর বাড়িতে। তাদের ধারণা এ বাড়িতেই জাহাঙ্গীরকে পাওয়া যাবে।

বিষয়টি তেমন হয়নি কারন ইতোমধ্যে জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে চাঁপাইনাবাবগঞ্জে যুদ্ধে লিপ্ত হন। মিলিটারীরা তাকে না পেয়ে তার নানা-নানীকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে পুরো ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়। পাশের বাড়ির আত্মীয় কালুমীর ও বেগম বিবি বিষয়টি জানার পর তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মিলিটারীরা কালুমীরের বড় মেয়ে ছিনুর সামনেই বেগম বিবিকে গুলি করে হত্যা করে। ছিনুর বয়স তখন ৭ বছর, তার মনে বেশ দাগ কাটে। চোখের সামনে তার মায়ের এই মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনা। ছিনুর বয়স এখন ৫৮ বছর। বিয়ে করে ঢাকাতেই থাকে। ডিসেম্বর এলেই সেই দূর্বিসহ স্মৃতিগুলো তাকে নাড়া দেয়। কিছুতেই ঘুমাতে পারেনা সে।

একদিন স্বামীকে না বলে রাতের আধাঁরে বেড়িয়ে পরে ঢাকা শহর দেখতে। হাঠছে ছিনু, পথরোধ করে ২জন উত্তোক্তকারী, ভাবলেশহীনভাবে দেখে তাদেরকে। দুজনে দৌড়ে পালায়। রিক্সা নিয়ে ঘুরতে থাকে পুরো শহর। গুলশান-২ নম্বর চত্বরে এসে নামে। নিজের চোখে দেখে কি করে ড্রাগ ও অস্ত্র কেনা-বেচা হচ্ছে। বিষয়টি ছিনু দেখে ফেলায় ঐ সন্ত্রাসীরা তাকে পিছু ধাওয়া করে। কোনো মতে এ যাত্রায় বেঁচে যায়। রিক্সা চলে দ্রæত গতিতে। মহাখালী বাসষ্টান্ড, রাত ২টা, ১জন মহিলার লাশ পরে আছে পাশে ছোট্ট মেয়েটি কাঁদছে, খবর নিয়ে ছিনু জানতে পারে কিছুক্ষণ আগে ছিনতাইকারীর কবলে মহিলাটি। গুলিতে মরতে হয়েছে তাকে।

এত অসংঙ্গতির মধ্য একটু শান্তির বারতা পেল ছিনু। যখন দেখলো এতশত শীতার্ত মানুষের মাঝে কোনো এক বৃদ্ধ নিজের ভালোলাগা থেকেই কম্বল বিতরন করছেন। ছিনু বেশ আস্বস্ত হন। কতশত অনিয়মের মাঝে একটুকু আশার আলো, যে আলোর ফুলকিতে এখনো হাটছে আজকের বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here