আদালতে হাজির আসিফ আকবর

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আসিফ আকবর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আবু সাঈদের আদালতে হাজির হন তিনি।

আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইসিটি মামলায় আজ পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও তা জমা হয়নি। তাই আগামী ৮ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়ার নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত। এ ব্যাপারে আসিফ আকবর বলেন,’দেশের আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। সেজন্য আদালতে হাজির হয়েছিলাম। তবে এখনও পুলিশ প্রতিবেদন জমা হয়নি। সে কারণে নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে।’

মামলার এজাহারে গীতিকার ও সুরকার শফিক তুহিন উল্লেখ করেছেন, গত ১ জুন আনুমানিক রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪-এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট এর চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরের দিন রাত ৯টা ৫৯ মিনিটে আসিফ আকবর তার প্রায় ৩২ লাখ লাইকার সমৃদ্ধ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। ৫৪ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড লাইভ ভিডিওর ২২ মিনিট থেকে তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে আসিফ আকবর তাকে (শফিক তুহিন) শায়েস্তা করবেন-এ কথা বলার পাশাপাশি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাকে যেখানেই পাবেন, সেখানেই প্রতিহত করবেন। এই নির্দেশনা পেয়ে আসিফ আকবরের ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। আসিফ আকবরের এই বক্তব্য লাখ লাখ মানুষ দেখেছে।  এতে তার (শফিক তুহিন) মানহানি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here