‘এই দেওয়া-নেওয়াটা খুব ভালো ছিল’

0
105

জাতীয় পুরস্কার-প্রাপ্ত নায়িকা শিমলা আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন। সেই ছবিই হতে চলেছে তার বলিউড ডেবিউ। কিংস এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ও অর্পণ রায়চৌধুরী পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘সফর’-এ মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সম্প্রতি শেষ হয়েছে ছবির মুম্বাই শুটিং শিডিউল। এ সময় কলকাতার একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন এই নায়িকা। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আপনার নামটা খুব মিষ্টি। কে রেখেছিলেন নামটা?

শিমলা: ধন্যবাদ। আমার জন্মের সময়, আমার দিদির তখন বিয়ে হয়ে গিয়েছে। খবরটা পেয়ে আমার জামাইবাবু এই নামটা রাখেন। আমার পুরো নাম কিন্তু শামসুর নাহার শিমলা।

আপনি কি ছোট থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন?

শিমলা: আমি যখন প্রথম বুঝতে শিখছি, তখন থেকেই আমার খুব ইচ্ছে হতো যে আমি বড় হয়ে অভিনেত্রী হবো। তখনও বিষয়টা পুরোপুরি বুঝতাম না কিন্তু মনে হতো যে এই কাজটা আমি পারব। তখন থেকেই আমি শুধু বাংলাদেশ নয়, এপার বাংলার ছবি, বলিউড ছবি, ইংলিশ মুভি সবই দেখতে শুরু করি।

এপার বাংলার ছবির জগতে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী কাদের মনে হয়?

শিমলা: অবশ্যই উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন।

আর বলিউডে?

শিমলা: বলিউডের তিন খান তো অবশ্যই— শাহরুখ, আমির, সালমান। তার পাশাপাশি এখন ভালো লাগে রণবীর সিং, রণবীর কাপুর বা বরুণ ধাওয়ান। আসলে যে ছবিতে যে অভিনেতা বা অভিনেত্রী ভালো অভিনয় করেন আর কী। যেমন ঋত্বিক রোশনের একটা ছবি আমার খুব ভালো লেগেছিল— ‘ব্যাং ব্যাং’।

আপনার প্রথম ছবি ‘ম্যাডাম ফুলি’-র জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। খুব কম অভিনেত্রীরই তেমন অভিজ্ঞতা হয়। এর পরে এপার বাংলার ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে হয়নি?

শিমলা: কাজ করার ইচ্ছে তো ডেফিনিটলি আছে কিন্তু ঠিক সুযোগ হয়নি।

আপনি তো প্রায় তিন-চার বছর পরে অভিনয়ে ফিরলেন এবং সেই কামব্যাক ছবিটা হল বলিউডে। ওখানে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা বাংলাদেশের চেয়ে কতটা আলাদা?

শিমলা: আসলে ভাষাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন বাংলায় কথা বলছি, তখন আমার এক্সপ্রেশন একরকম হবে আবার যখন ইংরিজিতে কথা বলব, তখন আমার বডি-ল্যাঙ্গোয়েজ আলাদা হয়ে যায়। যখন হিন্দিতে কথা বলব, তখন আবার অন্যরকম। সেক্ষেত্রে বলব যে অভিনয়টা একটু হলেও আলাদা হয়।

তাহলে ‘সফর’-এর আগে নিশ্চয়ই অনেক ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে আপনাকে? বলিউডে কোনও মেন্টর পেয়েছেন কি, যিনি আপনাকে সাহায্য করেছেন?

শিমলা: আমি একটা নামই বলব— কিংশুক গুণ, যার প্রযোজনায় এই ছবিটা করছি। আমাকে হিন্দি ছবিতে ব্রেকটা উনিই দিয়েছেন। কিংদা-ই আমাকে শুটিং শুরু হওয়ার আগে অনেকটা সাহায্য করেছেন হোমওয়ার্ক করতে।

আপনার প্রযোজক এবং পরিচালক, অর্পণ রায়চৌধুরী, দু’জনেই আপনার কাজের প্রশংসা করেছেন।

শিমলা: অনেক ধন্যবাদ। খুব ভালো লাগল এটা জেনে যে তাদের ভালো লেগেছে আমার কাজ। আসলে পরিচালকের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তিনি কীভাবে একজন আর্টিস্টকে প্রেজেন্ট করবেন।

ডিরেক্টরের সঙ্গে কখনও ঝগড়া হয়নি?

শিমলা: ঝগড়া আমি করি না…। আর আর্টিস্টরা কি ঝগড়া করে নাকি?

রাগও তো হতে পারে।

শিমলা: আমার প্রথম কাজ এইখানে। রাগ হলেও তা আপনা-আপনি চলে যাবে। কিন্তু রাগ হয়নি এটা সত্যি। একজন ডিরেক্টর সব সময় চায় যে সে যেটা চাইছে, আর্টিস্ট সেটা যেন বুঝতে পারে। অর্পণ আর আমার মধ্যে এই দেওয়া-নেওয়াটা খুব ভালো ছিল।

আর আপনার কো-অ্যাক্টরদের কেমন লেগেছে?

শিমলা: কো অ্যাক্টর ভালো পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। ‘সফর’-এ মেল প্রোটাগনিস্ট যিনি ছিলেন বা অন্য যাদের সঙ্গে আমার সিন ছিল, তার সবার সঙ্গে খুব ভালো জেলিং হয়েছে। তাদের ব্যক্তিগতভাবে কেমন সেটা আমি বলতে পারব না বা অভিনয়ে কতটা ভালো সেটা ডিরেক্টর বলতে পারবেন কিন্তু আমার সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট খুব ভালো ছিল।

আপনার পরিবারের সবাই নিশ্চয়ই খুব খুশি?

শিমলা: হ্যাঁ সবাই খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করছে। বাংলাদেশ থেকে কোনও অভিনেত্রী লিড রোলে হিন্দি ছবিতে কাজ করছে, এটা বাংলাদেশের জন্য খুব বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট। আমি খুব খুশি যে আমার ভাগ্য এতটা ভালো। প্রথম ছবিতেই ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, আবার বলিউডের মতো একটা জায়গা, যেখানে প্রচণ্ড কম্পিটিশন চলে, সেখানে আমি এরকম একটা সুযোগ পেয়েছি। অনেক বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আছেন আমাদের দেশে। তারাও নিশ্চয়ই কাজ করবেন। এটাই আনন্দ হচ্ছে যে, আমার নামটা সেই তালিকায় প্রথম দিকে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here